বনলতা সেন - আমাদের সবারই পড়া একটি কবিতা। প্রেমের ক্লাসে ভর্তির প্রথম শর্তই ছিল, বনলতা সেন মুখস্থ থাকতে হবে।
তবে আমার এক বন্ধু প্রবাসে এক বাংগালি মেয়ে বন্ধুকে বলেছিল –
- তোমাকে বনলতা সেনের মত লাগে।
- কার মত, কৈ’লা?
- ব-ন-ল-তা সেনের মত (কাচুমাচু)!
কারন ততক্ষনে সে বুঝে গেছে এই মাইয়া বনলতা সেনের নাম শুনে নাই।
- হেইডা আবার কেডা (রাগত)? তোমার এক্স গার্ল ফেন্ড নাকি (উর্দ্ধে উঠছে)? তাইলে তার কাছেই যাও। আমার মাঝে তারে খুইছতাছ কেন?
মর জ্বালা। আমি যাই বংগে কপাল আসে না সংগে। আমাদের আজকে কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার কবিতা।

জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেব্রুয়ারী, ১৮৯৯, বরিশাল - অক্টোবর ২২, ১৯৫৪) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেন নি। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন – তোমার কবিতায় কাব্যরস যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে।
শৈশব
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের জেলাশহর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণা নিবাসী। তাঁর পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৯৩৮-৮৫) বিক্রমপুরথেঁকে স্থানান্তরিত হয়ে বরিশালে আবাস গাড়েন। জীবনানন্দের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্তের সর্বাসন্দের দ্বিতীয় পুত্র। সত্যানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৬৩-১৯৪২) ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক এবং ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি, তার সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণীর পাঠ্য। জীবনানন্দ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার ডাকনাম ছিল মিলু।
আমার মতে এই বনলতা সেন আর কেউ না – সে আমাদেরই বাংলাদেশ। সমস্ত পৃথিবি ঘুরে এসে কেবল নিজের দেশে এলেই এই শান্তি পাওয়া যায়। যে রুপের বর্ননা তিনি করেছে তা যে বাংলার রুপের সাদৃশ্য সহজেই মেলে। বনলতা সেন থাকুক বা নাই থাকুক কিংবা যেই হোন, বাংলা ভাষার ইতিহাসে এত জনপ্রিয় কবিতা আর দ্বিতিয়টি নাই। কবিতাটি প্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত্য তরুণ পাঠকদের এমন করে আকৃষ্ট করে রেখেছে - কবি নিজেও তখন বিস্মিত হয়েছিলেন, আজও আমরা বিস্মিত হই। ১৯৫৩ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র সাহিত্য সম্মেলনে ১৯৫২-র শ্রেষ্ঠ কাব্যের স্বীকৃতি লাভ করে 'বনলতা সেন'। জীবদ্দশায় এই একটি পুরস্কার পেয়েছিলেন কবি, এই 'বনলতা সেন'-রই জন্য।
গেল পৌষেই পুরো হলো 'বনলতা সেন' কবিতা প্রকাশের ৭৫ বছর। রহস্যময়তা, সৌন্দর্য আর কবির গভীর অনুভব কবিতাটিকে এমন এক চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে যে বনলতা সেন হয়ে উঠেছেন চিরকালের নারী, চিরসুন্দরী, অক্ষয়-অমর এক চিরপ্রার্থিত প্রেমিকা। এমন যার অবস্থান, সেখানে বনলতা বলে সত্যিই কেউ ছিল কি না, কী দরকার তার রহস্য উন্মোচনের? বরং চির অটুট থাক তার আবেদন ও সৌন্দর্য।
ছোট পরিসরে তাকে সাজাতে গেলে নিজেদেরকে বঞ্চিত করা হবে। তাই কয়েক পর্বে ভাগ করা হয়েছে। পরের পর্বে থাকবে – কবির আরও একটা অমর কবিতা – “রুপসী বাংলা”। সেই পর্যন্ত্য সবাই ভাল থাকুন আর সাথেই থাকুন।
তবে আমার এক বন্ধু প্রবাসে এক বাংগালি মেয়ে বন্ধুকে বলেছিল –
- তোমাকে বনলতা সেনের মত লাগে।
- কার মত, কৈ’লা?
- ব-ন-ল-তা সেনের মত (কাচুমাচু)!
কারন ততক্ষনে সে বুঝে গেছে এই মাইয়া বনলতা সেনের নাম শুনে নাই।
- হেইডা আবার কেডা (রাগত)? তোমার এক্স গার্ল ফেন্ড নাকি (উর্দ্ধে উঠছে)? তাইলে তার কাছেই যাও। আমার মাঝে তারে খুইছতাছ কেন?
মর জ্বালা। আমি যাই বংগে কপাল আসে না সংগে। আমাদের আজকে কবি জীবনানন্দ দাশ ও তার কবিতা।
জীবনানন্দ দাশ (১৭ ফেব্রুয়ারী, ১৮৯৯, বরিশাল - অক্টোবর ২২, ১৯৫৪) বিংশ শতাব্দীর অন্যতম প্রধান আধুনিক বাংলা কবি। তিনি প্রধানত কবি হলেও বেশ কিছু প্রবন্ধ-নিবন্ধ রচনা ও প্রকাশ করেছেন। তবে ১৯৫৪ খ্রিস্টাব্দে অকাল মৃত্যুর আগে তিনি নিভৃতে ১৪টি উপন্যাস এবং ১০৮টি ছোটগল্প রচনা গ্রন্থ করেছেন যার একটিও তিনি জীবদ্দশায় প্রকাশ করেন নি। রবীন্দ্রনাথ তার কাব্য প্রতিভায় মুগ্ধ হয়ে লিখেছিলেন – তোমার কবিতায় কাব্যরস যথেষ্ট পরিমানে রয়েছে।
শৈশব
জীবনানন্দ দাশ ১৮৯৯ খ্রিস্টাব্দে বাংলাদেশের দক্ষিণ প্রান্তের জেলাশহর বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পূর্বপুরুষেরা ছিলেন ঢাকা জেলার বিক্রমপুর পরগণা নিবাসী। তাঁর পিতামহ সর্বানন্দ দাশগুপ্ত (১৯৩৮-৮৫) বিক্রমপুরথেঁকে স্থানান্তরিত হয়ে বরিশালে আবাস গাড়েন। জীবনানন্দের পিতা সত্যানন্দ দাশগুপ্তের সর্বাসন্দের দ্বিতীয় পুত্র। সত্যানন্দ দাশগুপ্ত (১৮৬৩-১৯৪২) ছিলেন বরিশাল ব্রজমোহন স্কুলের শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, বরিশাল ব্রাহ্ম সমাজের সম্পাদক এবং ব্রাহ্মসমাজের মুখপত্র ব্রাহ্মবাদী পত্রিকার প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক। জীবনানন্দের মাতা কুসুমকুমারী দাশ ছিলেন কবি, তার সুপরিচিত কবিতা আদর্শ ছেলে (আমাদের দেশে হবে সেই ছেলে কবে/ কথায় না বড় হয়ে কাজে বড়ো হবে) আজও শিশুশ্রেণীর পাঠ্য। জীবনানন্দ ছিলেন পিতামাতার জ্যেষ্ঠ সন্তান। তার ডাকনাম ছিল মিলু।
১৯৪২ সালে প্রথম প্রকাশে ‘বনলতা সেন’-এর প্রচ্ছদ আর্টস সংস্করণের প্রচ্ছদ হিসেবে ব্যবহার করা
বনলতা সেন
হাজার বছর ধরে আমি পথ হাঁটিতেছি পৃথিবীর পথে,
সিংহল সমুদ্র থেকে নিশীথের অন্ধকারে মালয় সাগরে
অনেক ঘুরেছি আমি ; বিম্বিসার অশোকের ধূসর জগতে
সেখানে ছিলাম আমি ; আরো দূর অন্ধকারে বিদর্ভ নগরে;
আমি ক্লান্ত প্রাণ এক, চারিদিকে জীবনের সমুদ্র সফেন,
আমারে দুদণ্ড শান্তি দিয়েছিলো নাটোরের বনলতা সেন।
চুল তার কবেকার অন্ধকার বিদিশার নিশা,
মুখ তার শ্রাবস্তীর কারুকার্য; অতিদূর সমুদ্রের 'পর
হাল ভেঙে যে নাবিক হারায়েছে দিশা
সবুজ ঘাসের দেশ যখন সে চোখে দেখে দারুচিনি-দ্বীপের ভিতর,
তেমনি দেখেছি তারে অন্ধকারে; বলেছে সে , ' এতোদিন কোথায় ছিলেন?'
পাখির নীড়ের মত চোখ তুলে নাটোরের বনলতা সেন।
সমস্ত দিনের শেষে শিশিরের শব্দের মতন
সন্ধ্যা আসে; ডানার রৌদ্রের গন্ধ মুছে ফেলে চিল;
পৃথিবীর সব রঙ নিভে গেলে পাণ্ডুলিপি করে আয়োজন
তখন গল্পের তরে জোনাকির রঙে ঝিলমিল;
সব পাখি ঘরে আসে--সব নদী--ফুরায় এ-জীবনের সব লেনদেন;
থাকে শুধু অন্ধকার, মুখোমুখি বসিবার বনলতা সেন।
আমার মতে এই বনলতা সেন আর কেউ না – সে আমাদেরই বাংলাদেশ। সমস্ত পৃথিবি ঘুরে এসে কেবল নিজের দেশে এলেই এই শান্তি পাওয়া যায়। যে রুপের বর্ননা তিনি করেছে তা যে বাংলার রুপের সাদৃশ্য সহজেই মেলে। বনলতা সেন থাকুক বা নাই থাকুক কিংবা যেই হোন, বাংলা ভাষার ইতিহাসে এত জনপ্রিয় কবিতা আর দ্বিতিয়টি নাই। কবিতাটি প্রকাশের পর থেকে আজ পর্যন্ত্য তরুণ পাঠকদের এমন করে আকৃষ্ট করে রেখেছে - কবি নিজেও তখন বিস্মিত হয়েছিলেন, আজও আমরা বিস্মিত হই। ১৯৫৩ সালে কলকাতায় অনুষ্ঠিত রবীন্দ্র সাহিত্য সম্মেলনে ১৯৫২-র শ্রেষ্ঠ কাব্যের স্বীকৃতি লাভ করে 'বনলতা সেন'। জীবদ্দশায় এই একটি পুরস্কার পেয়েছিলেন কবি, এই 'বনলতা সেন'-রই জন্য।
গেল পৌষেই পুরো হলো 'বনলতা সেন' কবিতা প্রকাশের ৭৫ বছর। রহস্যময়তা, সৌন্দর্য আর কবির গভীর অনুভব কবিতাটিকে এমন এক চূড়ায় পৌঁছে দিয়েছে যে বনলতা সেন হয়ে উঠেছেন চিরকালের নারী, চিরসুন্দরী, অক্ষয়-অমর এক চিরপ্রার্থিত প্রেমিকা। এমন যার অবস্থান, সেখানে বনলতা বলে সত্যিই কেউ ছিল কি না, কী দরকার তার রহস্য উন্মোচনের? বরং চির অটুট থাক তার আবেদন ও সৌন্দর্য।
ছোট পরিসরে তাকে সাজাতে গেলে নিজেদেরকে বঞ্চিত করা হবে। তাই কয়েক পর্বে ভাগ করা হয়েছে। পরের পর্বে থাকবে – কবির আরও একটা অমর কবিতা – “রুপসী বাংলা”। সেই পর্যন্ত্য সবাই ভাল থাকুন আর সাথেই থাকুন।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন